জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী নিজের গান আর শান্ত জীবনযাপন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসেন। তবে কেউ তাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করলে সোজাসাপ্টা জবাব দিতেও ছাড়েন না তিনি।
ছাত্রীজীবনের এসএফআই করেছেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেত্রী ছিলেন তিনি। সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠনের কলকাতা জেলা কমিটিরও সদস্য ছিলেন এ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছুই। বদল এসেছে তার ভাবনাতেও।
দিন কয়েক আগেই টালিপাড়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছিল ইমন চক্রবর্তী নাকি এবার ভোটে লড়বেন তৃণমূলের হয়ে। সেই গুঞ্জনে পানি পড়েছে। তবে কটাক্ষ পিছু ছাড়ছে না ইমনের। উন্নয়নের পাঁচালি গাওয়ার আফসোস নেই, স্পষ্ট জানিয়েছেন এ সংগীতশিল্পী।
সম্প্রতি নিজের বাড়ির বারান্দার একটি সুন্দর কোণে বসে আলোর মালায় সেজে ওঠা গাছেদের মাঝে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন ইমন চক্রবর্তী। ছবিতে উঠে এসেছে নিজের মতো সময় কাটানোর আনন্দ। পোস্ট করা সেই ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল— ‘বারান্দা’। কিন্তু সেই মিষ্টি ছবিতেই হঠাৎ আছড়ে পড়ল রাজনৈতিক কাদা!
সামাজিক মাধ্যমে তারকাদের প্রতিটি পদক্ষেপই যেন আতশ কাঁচের তলায়। একটু এদিক-ওদিক হলেই শুরু হয়ে যায় ট্রলিং আর কটাক্ষ। বিশেষ করে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নেটিজেনরা ইদানীং প্রচণ্ড সংবেদনশীল। এবার সেই রোষানলের মুখে গায়িকা ইমন চক্রবর্তী।
সেই ছবির কমান্ড বক্সে নেটিজেনদের একাংশের মন্তব্য— ‘তৃণমূলের দালালি করেই তো এই সুখ! দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আঁচলের তলায় থাকলে বারান্দাও স্বর্গ হয়ে যায়, তাই না?’ ইমন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়েও ওই মন্তব্যে যে সরাসরি শাসক দল ও তার নেত্রীকে টেনে গায়িকাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। আরেক নেটিজেন লিখেছেন— বারান্দায় জোড়া ফুল, ফ্ল্যাগ, দিদির ছবি কই?
এবার সেই নেটিজেনদের মন্তব্যে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন ইমন। এ ধরনের কুরুচিকর ট্রলিংয়ের সপাটে জবাব দিতে তিনি কালক্ষেপ করেননি। ওই মন্তব্যের পালটা জবাবে গায়িকা লিখেছেন— একদম, ওটা বেডরুমে আছে।
ইমনের এই সাহসী ও যুক্তিপূর্ণ জবাব এখন নেটপাড়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু অনুরাগী। তাদের মতে, একজন শিল্পীর পরিশ্রম আর তার নান্দনিক বোধকে স্রেফ রাজনৈতিক রঙ দিয়ে বিচার করা অত্যন্ত অনুচিত।


